শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:শিশু সাদাব হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেললাইন অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এতে আড়াই ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রেলপথ থেকে সরে গেলে এ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বেলা ১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এ অবরোধ চলে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, শিশু সাদাব নিহতের ঘটনায় পুলিশের তদন্তে গাফিলতির প্রতিবাদে তারা ট্রেন আটকে বিক্ষোভ করেছে। তারা সাদাব হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে।
শিশু সাদাবের নানা সুলতান মিয়া বলেন, ‘মামলার পর আমরা সন্দেহভাজনদের নাম পুলিশকে দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ তদন্তের নামে এলাকায় এসে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে কানাকানি করে চলে যায়। এতে সন্দেহভাজনরা এখন আমাদেরও হত্যার হুমকি দিচ্ছে।’
ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন বলেন, ‘শিশু সাদাব হোসেন হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। প্রশাসনের এমন আশ্বাসের পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রেলপথ থেকে সরে যায় শিক্ষার্থীরা। এ সময় আটকে থাকা জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি জামালপুরের উদ্দেশে রওনা দিলে ঢাকা-ময়মনসিংহে রেল চলাচল আবারও শুরু হয়।
নিহত সাদাব হোসেন জেলার নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের বারঘরিয়া গ্রামের সৌদিপ্রবাসী আল আমিনের ছেলে। শিশুটি মায়ের সঙ্গে গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার পাঁচবাগ ইউনিয়নের দিঘিরপাড় গ্রামে নানাবাড়িতে থাকত।
গত ১১ জুলাই দুপুরে নিখোঁজ হয় সাদাব। পরদিন দুপুর ১২টার দিকে শিশুটির স্বজনদের কাছে মুঠোফোনের দুটি নম্বর থেকে ৩০ হাজার ও ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দুটি নম্বরের একটিতে ২০ হাজার ও অপর দিকে ৮ হাজার টাকা পাঠানো হয়। এরপর ১৫ জুলাই সকালে দিঘিরপাড় গ্রামে স্বজনরা বাড়ি থেকে দেড় শ গজ দূরের একটি পুকুরে ওই শিশুর মরদেহ পান। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায় পুলিশ। শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে থানায় মামলা হয়।
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম বলেন,‘ শিশু সাদাব হত্যার ঘটনায় ট্রেন অবরোধের বিষয়টি জেনেছি। এখনো ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসেনি। মামলাটি তদন্ত চলছে।’