শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন
মোঃ আনিকুল ইসলাম উজ্জ্বল স্টাফ রিপোর্টার বরগুনা:আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ফুলেফেঁপে উঠেছেন মো. সরোয়ার (৩৩) নামের এক যুবক। কখনো সমন্বয়ক পরিচয়ে আবার কখনো জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন দপ্তর থেকে কাজ ভাগিয়ে নিয়েছেন।
এই সময়ে বদলির তদবির করে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বরগুনা এলজিইডি অফিসের দুই কর্মকর্তাসহ অনেক দপ্তরের কর্মকর্তাকে বদলি করেছেন মোটা অংকের বিনিময়ে।
নিজেকে পরিচয় করিয়েছেন সমন্বয়ক হিসেবে।
বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভুয়া নেতা সেজে ভয় দেখিয়ে এলজিইডি বিভাগ, জনস্বাস্থ্য বিভাগসহ অনেক দপ্তর থেকে কোটি কোটি টাকার কাজ ভাগিয়ে নিয়েছেন সরোয়ার।
বর্তমানে বরগুনা জনস্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নিজের লাইসেন্স না থাকায় অন্য একজনের লাইসেন্স দিয়ে তিনটি কাজ নিয়েছেন। সেখানে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার কাজ চলমান।
এর মধ্যে ৫০টি গভীর নলকূপ ও একটি লেট্রিনের কাজ রয়েছে। তাছাড়া এই সরোয়ার চলছেন বিভিন্ন নাম-পরিচয় দিয়ে। কখনো সোহাগ, স্বপন ও কখনো সুমন নামে বিভিন্ন দপ্তরে পরিচয় দিয়ে আসছেন।
স্থানীয়রা জানান, এই সরোয়ার চান্দখলী কদভানু মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক ছিলেন। সেখানের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেন।
পরে এ নিয়ে একটি মামলা হলে তিনি এলাকা থেকে পালিয়ে যান। সেই মামলার একজন আসামি হয়ে সরোয়ার কিভাবে সমন্বয়ক হন! এখন শোনা যাচ্ছে তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির ভুয়া এই নেতা ২০২২ সালে বেতাগী উপজেলার চান্দখালীর কদভানু মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষক থাকা অবস্থায় একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেন। পরে ২০২২ সালের মার্চ মাসে বেতাগী থানায় তার নামে একটি মামলা রুজু হয়।
মামলা নং ১১। সেই মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত একজন আসামি। শিক্ষার্থী অভিযোগ দিলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড থেকে তাকে ওই স্কুল থেকে চূড়ান্তভাবে অব্যহতি দেওয়া হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরগুনার অন্যতম নেতা ইমাম হোসেন জানান, সরোয়ার নামে এনসিপির কেন্দ্রীয় কোন নেতা নেই। এনসিপির কেন্দ্রীয় সব নেতাকে আমি চিনি।
গত ৫ আগস্টের পর থেকে এ রকম ভুয়া অনেক নেতা বের হইছে। যাদের কাজই হচ্ছে মানুষকে হয়রানি করে স্বার্থ হাসিল করা।অভিযোগের বিষয়ে . সরোয়ারের কাছে জানতে চাইলে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলে রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খান বলেন, ঢাকা থেকে আমাদের উর্ধতন কর্মকর্তারা আমাদেরকে স্টিমিট পাঠাতে বললে আমরা তা পাঠিয়ে দেই। এর পিছনে কেউ থাকতে পারে তা আমার জানা নেই। চাকরী বদলীযোগ্য এবার বরিশাল বিভাগে অনেকেরই বদলী হয়েছে। আমি এর বেশী কিছু বলতে পারবনা।