শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ রাজশাহীর আমের জন্য অপেক্ষার অবসান হলো। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মহানগর ও আশপাশের উপজেলার বাগানগুলোতে শুরু হয়েছে গাছপাকা গুটি আম নামানো। এই আম দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো আম নামানো। চলবে জুলাই মাস পর্যন্ত। এবার এই জেলায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার আম বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যদিও এর আগেরবার আমের অফ সিজন থাকায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।
বাগানিদের মতে, এবার আমের ফলন গতবারের চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও বাজারমূল্য তুলনামূলক কম। তবে সময়মতো আম পাড়ার সুযোগ পাওয়ায় সন্তুষ্ট তারা। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে নামানো হবে গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলি, আশ্বিনাসহ অন্য জাতের আম।
চলতি বছর রাজশাহীতে ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ৬ টন। গত মৌসুমে আমের চাষ হয়েছিল ১৯ হাজার ৬০২ হেক্টর জমিতে।
ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, গোপালভোগ আম নামানো যাবে ২২ মে থেকে। লখনা (লক্ষণভোগ) ও রানীপছন্দ ২৫ মে থেকে, হিমসাগর ও খিরসাপাত ৩০ মে থেকে, ল্যাংড়া ও ব্যানানা ম্যাংগো ১০ জুন থেকে, আম্রপালি ও ফজলি ১৫ জুন থেকে, বারি-৪ আম ৫ জুলাই, আশ্বিনা ১০ জুলাই এবং গৌড়মতি ১৫ জুলাই থেকে, এ ছাড়া কাটিমন ও বারি আম-১১ জাতের আম পাকলেই নামাতে পারবেন চাষিরা।
গত আট বছরের মতো এবারও অপরিপক্ব আম বাজারজাতকরণ ঠেকাতে জাতভেদে আম নামানোর নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। এই সময়সূচিই ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ নামে পরিচিত। সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শুক্রবার থেকে গুটি আম পাড়া শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী মহনগর, পুঠিয়া ও বাঘা উপজেলার বিভিন্ন বাগানে গিয়ে দেখা যায়, আমচাষিরা গাছপাকা গুটি আম নামিয়ে বানেশ্বর হাটসহ বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন।
রাজশাহী মহানগরীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার এক বাগানে আম নামাচ্ছিলেন চাষি আনোয়ার হোসেন।
তিনি বলেন, আমাদের বাগানে এখন যেসব আম নামানো হচ্ছে, এর মধ্যে সাগরিকা নামানো শুরু হলো। এবার যে সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে, তা সময়মতোই কার্যকর হওয়ায় আমাদের জন্য সুবিধা হয়েছে। গাছে আমও ভালোভাবে পেকেছে।
এসব আমকে অনেকেই আঁটি আমও বলেন। এই গুটি জাতের প্রায় ৩০০ রকমের আম আছে, যেগুলো অন্য জাতের চেয়ে আগেভাগেই পাকতে শুরু করে। চোষা বা চোরষা, বৈশাখী ও চাপড়া নামের গুটি আমও নামানো শুরু হয়েছে।
জেলার বাঘা উপজেলার আমচাষি আনোয়ার হোসেন পলাশ জানান, প্রথম দিন বাগান থেকে বড় আকারের গুটি আম মণপ্রতি বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। আর ছোট আমের দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে। গত বছরের তুলনায় এবার শুরুতেই দাম কিছুটা কম।
তিনি আরও বলেন, এবার এলাকার অন্য বাগানগুলোতে আমের ফলন ভালো হলেও আমার বাগানে কিছুটা কম হয়েছে। তবু বাজারের যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তাতে দাম কমে শুরু হওয়ায় আমরা একটু হতাশ।
পুঠিয়া উপজেলার নামাজগ্রাম এলাকার আম ব্যবসায়ী সোহেল ১৫ বছর ধরে আম ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত। এ বছর তার কয়েকটি বাগান লিজ নেওয়া আছে। বাগানে ৫০০টির মতো আম গাছ আছে। তিনি বলেন, এ বছর আমের ফলন ভালো হয়েছে। আমের সাইজ মাঝারি আকৃতির। আমের বাজার মোটামুটি ভালো আছে। এর আগে গুটি আম পেকে যাওয়ায় বাজারে আম বিক্রি করেছেন। দাম পেয়েছেন ১ হাজার ৫০০ টাকা মণ। তিনি আশা করছেন, এবার আমের দাম ভালো পাবেন।
তিনি বলেন, বাজারে আমের দাম ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা মণ পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক উম্মে ছালমা জানিয়েছেন, চাষিরা আম নামানো শুরু করেছে। এই আম নামানো চলবে আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত। এবার আশা করা যাচ্ছে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।