শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেছেন, খাগড়াছড়ি এলাকায় সীমান্তের ওপারে আরও ২০০-৩০০ শরণার্থী আছে। যাদেরকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে।
সোমবার (১২ মে) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, শরণার্থীর বিষয়টি বুঝতে পেরে সেখানে পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে। এ কারণে দুদিন ধরে চেষ্টা করেও পারছে না। ওই শরণার্থীরা এখনো সীমান্তে অবস্থান করছে।
বিজিবি ডিজি বলেন, গত ৭ ও ৮ মে দুইদিনে আমরা ২০২ জনকে পেয়েছি যাদেরকে বিএসএফ বাংলাদেশে পুশইন করেছে। সীমান্তের যেসব জায়গায় জনবসতি নেই সেরকম জায়গা দিয়ে তাদের পুশইন করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এদের মধ্যে এসবি ভেরিফিকেশন ও থানা পুলিশের মাধ্যমে যাদেরকে বাংলাদেশি পেয়েছি। তারা ২০ থেকে ২৫ বছর আগে নানা কাজে ভারতে গিয়েছিলেন। তাদের সন্তানরাও অনেক আগে ভারতে গিয়েছিলেন। তাদের সবার ভারতের আধারকার্ড ও অন্যান্য ডকুমেন্টস রয়েছে। কিন্তু ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফ ওই ডকুমেন্টস রেখে দিয়ে তাদের পুশইন করেছে। তাদেরকে প্রশাসনের মাধ্যমে ভারতের নিজনিজ এলাকায় প্রত্যাবাসনের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
তিনি বলেন, পুশইন হয়ে আসা লোকজনের মধ্যে ৩৯ জন রোহিঙ্গা পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে অনেকে একসময় বাংলাদেশের ক্যাম্পে রেজিস্টার্ড ছিল, কোনোভাবে পালিয়ে ভারতে চলে গেছে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাদের আমরা ক্যাম্পে ফেরত পাঠিয়েছি। তবে এলার্মিং বিষয় হলো- যারা ভারতের ইউএনএইচসিআরের শরণার্থী, সেখানে রেজিস্ট্রেশন করা, আইডি কার্ডও আছে- ওইরকম কয়েকজন রোহিঙ্গাকেও পুশইন করা হয়েছে। এটি চরমভাবে মানবাধিকারের লঙ্ঘনের শামিল। কেননা যে যে দেশের শরণার্থী, তার সেই দেশেই থাকা উচিত ছিল।
এসময় রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৫ জনের ভারতীয় ক্যাম্পের আইডি কার্ড দেখিয়ে বিজিবি ডিজি বলেন, আরআরআরসি, ইউএনএইচসিআর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই বিষটি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, বরাবরের মতো বিএসএফ এ পুশইনের বিষয়টি স্বীকার করছে না। ওরা বলছে, এই নাগরিকরা হয়তো- নিজেই চলে গিয়েছিলো ভারতে। আবার নিজেরাই বাংলাদেশে ফিরেছে। আমরা এটা মানছি না। পতাকা বৈঠক করে আমরা এর প্রতিবাদ জানানো অব্যাহত রেখেছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। পুশইনের মানুষগুলো যদি সত্যিকারে বাংলাদেশি হয় আমরা গ্রহণ করবো। তবে সেটি ফর্মাল প্রসেসের মাধ্যমে হতে হবে। এভাবে লুকোচুরির মাধ্যমে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, ল্যান্ডে না পেরে সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া চড়ে ভারতীয় জাহাজে করে এসে আরও ৭৮ জনকে রেখে গেছে বিএসএফ। কোস্টগার্ড তাদের উদ্ধার করে ভারতের নিজ এলাকায় পাঠানোর বিষয়টি দেখছে। সবমিলিয়ে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি এবং স্বরাষ্ট ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।