শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদনে :ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে চাঁদার টাকা না দেওয়ায় একটি কৃষি খামারে সশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে মাছ-ছাগল লুট, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। সরজমিনে গিয়ে প্রমাণ মিলে স্থানীয় একদল প্রভাবশালী এই নেক্কারজনক ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মোছা. খাদিজা খাতুন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ত্রিশাল উপজেলার কানিহারি ইউনিয়নের চর বিয়ার্তা গ্রামে খায়রুল বাশার হামীম নামে এক যুবক ‘জাহির এগ্রো ফার্ম’ নামে একটি খামার পরিচালনা করে আসছিলেন। ওই খামারে মাছ চাষ, ছাগল ও গরু পালনের পাশাপাশি কৃষিজ পণ্য উৎপাদন করা হতো। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল।
গত ১২ এপ্রিল (শনিবার) দুপুর ১২টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ১৫/২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে খামারে হামলা চালায়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মনজুরুল ওয়াহেদ লিকছন, রাজন মিয়া, তোফায়েল আহমেদ ফরহাদ, ইসতিয়াস হাসান রাজীব, আশরাফুল আলম, শুভ, ফারুক মাস্টারসহ আরও অনেকে। এ সময় তারা খামারের কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগত ৫ লাখ টাকা এবং মাসে ১টি করে ছাগলের চাঁদা দাবি করে।
চাঁদা না পেয়ে হামলাকারীরা খামারের ৮/১০টি মাছের ঘেরের মাছ ধরে নিয়ে যায়। ছাগলের খামার থেকে অন্তত ১৪৫টি ছাগল লুট করে এবং প্রায় ১,৪৫০ কেজি মাছ নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, খামারের অফিসঘর, গেট, টিনশেড ঘর ও মালপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন করে।
এছাড়া খামারে থাকা দুটি কম্পিউটার, তিনটি মনিটর, দুটি মোবাইল ফোন, দুটি ইনভার্টার, দুটি চার্জার ফ্যান,দুটি ভিডিও ক্যামেরা, একটি এসি, সিসি ক্যামেরা, পাম্প মেশিনসহ আরও অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করে,
সবমিলিয়ে বর্তমানে যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৫০ লক্ষ টাকার উর্ধ্বে ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে একাধিকবার সহায়তা চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিক সাড়া পাননি।
অবশেষে খায়রুল বাশার হামীমের মা মোছা. খাদিজা খাতুন ত্রিশাল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে গেলেও,তার অভিযোগ থানায় নেওয়া হয় নাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ত্রিশাল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে একাধিক বার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেশীদের সাথে কথা হলে তারা দৈনিক দিনের সময়কে বলেন, হামিম একজন ভালো মানুষ। তার সাথে যা হয়েছে তা একেবারেই অন্যায়।
আর যারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে তারা, আরো অনেকের সাথে এমন করতাছে। হয়তো প্রাণের ভয়ে কেউ মুখ খোলে না। আমরা এর বিচার চাই যাতে তারা আর কারে সাথে এমন না করতে পারে।