শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর মোহাম্মাদপুর থানাধীন রায়ের বাজার এলাকায় আসামি ধরতে গিয়ে হামলায় চার পুলিশসহ পাঁচজন আহত হয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৫ জনকে। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রায়েরবাজার বোর্ড ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল এবং জাতীয় অর্থপেডিক ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের অনেকের মাথা ফেটে গেছে, হাতের রক্তনালী কেটে গেছে, কারো ভেঙেছে হাত। আহতরা হলেন- মোহাম্মদপুর থানার এসআই আফজালুল হক, জসীমউদ্দীন, খোরশেদ আলম, এএসআই সোহেল রানা এবং সোর্স আল আমিন। তাদের মধ্যে আল আমিন বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, বাকিরা চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
এবিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী ইফতেখার হাসান বলেন, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বোটঘাট এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের করা মামলায় আসামি ধরতে গেলে নারী-পুরুষ মিলে পুলিশকে ঘেরাও করে বেধড়ক পেটায়। রড লাঠি ছাড়াও নারীদের হাতে বটিও দেখা গেছে। পরে পুলিশসহ পাঁচজন আহত হলে তারা সেখান থেকে চলে আসে এবং হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পুলিশের উপরে হামলার পর রাতে রায়েরবাজার বোর্ড ঘাট এলাকায় ফের সেখানে পুলিশ, র্যাব ও সেনা সদস্যরা অভিযান চালায়। অভিযানে ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বলেন, ওই এলাকা ঘিরে অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সবার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
জানা যায়, কয়েকদিন আগে একাধিক হত্যা মামলার আসামি ও বোর্ড ঘাট এলাকার কিশোর গ্যাং গ্রুপ পাটালি গ্রুপের মূলহোতা ফালানকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ওই সময় পাটালি গ্রুপ ও বোর্ড ঘাটের মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের হাত থেকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ব্যর্থ হয়ে বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশের অভিযানের সময় তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা। এ হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে পাটালি গ্রুপের ল্যাংড়া হাসান, ফরহাদ ও চিকু শাকিল। তাদের নেতৃত্বে এ গ্রুপের সদস্য পিচ্চি হাসান, স্বপন, শাহিন, ছোট্ট হাসান, সবিজ মুন্না, দিপু, সম্রাট, রফিক, রাকিব ও রাসেলসহ ৩০-৪০ জন এ হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী জানান, রায়ের বাজার এলাকায় মাদকের রমরমা ব্যবসা মূলত কিশোর গ্যাং গ্রুপগুলো টিকিয়ে রেখেছে। কেউ মাদক বন্ধ করতে আসলে কিংবা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে আসলেই তাদের ওপর গ্রুপের সদস্যরা হামলা চালায়। এসব মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংগুলোর পেছনে আগে আওয়ামী লীগের নেতা শাহআলম জীবন ও তারেকুজ্জামান রাজিব শেল্টার দিলেও বর্তমানে তা বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা শেল্টার দিচ্ছেন।
এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা অভিযানে গেলে তাদের ওপরও হামলা হয়। তাতে এক কর্মকর্তা আহত হয়েছিলেন।