শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হারিছ চৌধুরীকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সিলেটবাসী। রোববার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে তার মরদেহ সিলেট আনা হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স সিলেট পৌঁছলে, তা রাখা হয় সার্কিট হাউজে। এর আগে শনিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হারিছ চৌধুরীর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন।
আজ রোববার বেলা ২টায় সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে নেওয়া হয় জাতীয় পতাকায় মোড়ানো বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ। দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের বিপুল উপস্থিতিতে কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন হারিছ চৌধুরীর ভাতিজা হাফিজ হুজাইফা চৌধুরী।
এর আগে হারিছ চৌধুরীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী, বিএনপি নেতা বদরুজ্জামান সেলিমসহ অন্যরা। পরে মরহুম হারিছ চৌধুরীর রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। এ সময় শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণকারীরা। এছাড়া কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। এদিকে হারিছ চৌধুরীর লাশ শাহী ঈদগাহ ময়দানে আনার আগে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শাহী ঈদগাহে মোতায়েন করা হয় পুলিশ।
দোয়া শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়ি কানাইঘাটে। বাদ আছর লাশ কানাইঘাট উপজেলার সড়কের বাজারে প্রয়াত হারিছ চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত শফিকুল হক চৌধুরী মেমোরিয়াল এতিমখানার আঙ্গিনায় নির্ধারিত স্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হয়।
জানা গেছে, ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর হারিছ চৌধুরী মৃত্যুবরণ করলে ওই সময় আওয়ামী লীগ সরকারের রোষানল ও নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে তার পরিচয় গোপন করে অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান নামে সাভারের বিরুলিয়ায় জামিয়া খাতামুন্নাবিয়্যিন মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়।
পরবর্তীতে হারিছ চৌধুরীর কন্যা ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরীর এক রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করা হয়। কবর থেকে লাশ তোলার পর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিআইডি নমুনা সংগ্রহ করে এবং লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
পরবর্তীতে ডিএনএ টেস্টে লাশটি হারিছ চৌধুরীর নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে তার লাশ সিলেটে দাফন করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।