শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৬:১১ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
গফরগাঁওয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেললাইন অবরোধ ও মানববন্ধন আমতলীতে ১.৫ কেজি গাঁজাসহ ২জন গ্রেফতার কুয়াকাটায় কম্বলে মোড়ানো যুবকের মরদেহ বাউফলে জমিজমার বিরোধকে কেন্দ্র করে আপন ভাইকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন বরগুনায় সমন্বয়ক পরিচয়ে কোটি কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিলো যুবক গফরগাঁওয়ের হারানো সাকিরের সন্ধান চান তার পরিবার বরগুনায় সমন্বয়ক পরিচয় দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে মারধর মানুষ পিআর পদ্ধতি বোঝেনা, জনগন ভোট দিতে চায়: আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বিএনপির ক্ষমতায় গেলে ১৮ মাসে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করা হবে-আমীর খসরু জাতির অনেক অর্জনের মধ্যে জুলাই বিপ্লব একটি অর্জন-রিজভী

বাজারে আলুর নেই কমতি ,দাম এখনো ক্রেতার নাগালের বাইরে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাজারে এখন নতুন আলু বেশ ভালোই এসেছে। প্রায় প্রত্যেক সবজি বিক্রেতার দোকানেই রয়েছে থরে থরে সাজানো নতুন আলু। এর সঙ্গে পুরনো আলুও আছে। অর্থাৎ বাজারে কিন্তু আলুর কোনো কমতি নেই। অথচ আলুর দাম এখনো ক্রেতার নাগালে আসলো না। পুরনো আলুর কেজি এখনো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, আর নতুন আলুর কেজি ১০০ টাকার ওপরে।

এরচেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে সবজি বিক্রেতারা এখন আলু বিক্রি করছেন যে যার ইচ্ছেমতো দামে। বাজারে এখন এক কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৬ রকম দামে। যেমন, পুরনো আলু কেউ বিক্রি করছেন ৭০ টাকায়, আবার কেউ বেঁচছেন ৮০ টাকায়। আর নতুন আলু কোনো বিক্রেতা বিক্রি করছেন ১০০ টাকা কেজিতে, কেউ ১১০, কেউ ১১৫ আবার কেউ ১২০ টাকাতেও বিক্রি করছেন। দেখা যাচ্ছে একই বাজারের এক দোকানদার নতুন আলু ১০০ টাকায় বিক্রি করছে, আবার কেউ বিক্রি করছেন ১১০ টাকায়।

একেক জন একেক দামে আলু বিক্রি কেন করছেন-সে কারণ জানতে চাওয়া হয় সবজি বিক্রেতাদের কাছে। এ বিষয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আবুল কালাম মাতব্বর সময়ের আলোকে বলেন, ‘আলু একেক জন একেক দামে বিক্রি করার পিছনে কয়েকটি কারণ আছে। প্রথম কারণ হলো-আলু কোন অঞ্চলের তার ওপর নির্ভর করে দাম কতো। যেমন বগুড়া এলাকা থেকে আসা আলুর দাম এখন সবচেয়ে বেশি। আবার মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা, নরসিংদী, সাভার, মানিকগঞ্জ এলাকার আলুর দাম কিছুটা কম। এছাড়া কুষ্টিয়া, যশোর, মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা আলুর দামেও পার্থক্য রয়েছে। কারণ হচ্ছে-বগুড়ার আলুর মান সবচেয়ে ভালো, আবার দূরত্ব বেশি হওয়ায় গাড়িভাড়াও বেশি পড়ে। সুতরাং যে ব্যবসায়ী যে এলাকার আলু কিনেন, সে অনুযায়ী দামে বিক্রি করেন। এছাড়া ঢাকার একেক পাইকারি বাজারেও আলু একেক দামে বিক্রি হয়। আমরা যারা খুচরা ব্যবসায়ী তারা যে বাজার থেকে যেমন দামে কিনে আনেন, লাভ রেখে সে রকম দামে বিক্রি করছেন।’

রাজধানীর কাঁচা বাজারগুলোতে আসতে শুরু করেছে শীতের সবজি। এই সময় থেকেই সবজির দাম কম থাকার কথা থাকলেও এখনও চড়া সবজির বাজার। ৮০ টাকার নিচে নেই কোনো সবজি। বাজারে নতুন আলুর কেজি ১২০ টাকা আর করলার কেজি ১০০ টাকা। এছাড়া বরবটি, বিচিওয়ালা শিম, টমেটো, গাজর ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে সবজির বাজারে অন্যান্য পণ্যের মধ্যে- কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, করলা ১০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচা টমেটো ৬০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, বিচিওয়ালা শিম প্রতি কেজি ১০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সাধারণ শিম ৬০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, গোল বেগুন ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৬০ টাকা, শালগম ৬০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, পেঁয়াজের ফুল প্রতি আঁটি ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে প্রতি পিস ফুল কপি, বাঁধা কপি ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

অবশ্য ক্রেতারা বলছেন, শীত পড়ে গেলেও এখনো অনেক সবজির অনেক আইটেমের কেজি ১০০ টাকার ওপরে। অন্যগুলো ৬০ টাকা ৮০ টাকা। শীতের সময় সবজির দাম কমার কথা থাকলেও এখনো বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।। এই সময় যদি সবজির দাম না কমে, তাহলে আর কোন সময় কমবে?

ভোজ্য তেল নিয়ে চলছে তেলেসমাতি

এদিকে বাজারে ভোজ্যতেল নিয়ে চলছে তেলেসমাতি কারবার। তেলের বোতল থেকে তুলে ফেলে ইচ্ছে মতো দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া তেল কোম্পানিগুলো বাজারে সয়াবিন তেলের সবরাহও কমিয়ে দিয়েছে। এতে বাজারে সংকট দেখা দেওয়ায় দামও বেড়ে গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, শুল্ক কমলেও সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েল লিটারপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর বাজারগুলোতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু দোকানে যদিওবা পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর মূল্য ঘষে তুলে ফেলা বা মূল্য দেখা গেলেও সে তুলনায় বেশি দামে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম নিয়ে প্রতিদিনই ক্রেতা-বিক্রেতারা বিতণ্ডায় জড়াচ্ছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাজারে ঘোরাঘুরি করে খোলা তেল কিনেই বাড়ি ফিরছেন ক্রেতারা।

ক্রেতাদের অভিযোগ, একটি গোষ্ঠী যোগসাজশ করে তেলের দাম বাড়ানোর জন্য সংকট তৈরি করছে। আর, বিক্রেতাদের ভাষ্য, কোম্পানিগুলো থেকেই সরবরাহ কম। শুক্রবার রাজধানীর নিকেতন ও মহাখালী কাঁচাবাজারে কয়েকটি দোকান ঘুরেও ১ লিটার বা ২ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া যায়নি।

এই বাজারের মায়ের দোয়া স্টোর্সের সামনে বচসা হচ্ছিল ক্রেতা-বিক্রেতার। ক্রেতার ভাষ্য, বোতলের দাম ঘষে তুলে ফেলা হয়েছে। ১ লিটারের সয়াবিন তেল তিনি দুদিন আগেও কিনেছেন ১৬৩ টাকায়। সেই বোতলের দাম ঘষে তুলে ফেলে বিক্রেতা ১৭০ টাকা চাইছেন।

এ সময় বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, “আমি কাল সন্ধ্যায় এই মাল আনছি। কারওয়ান বাজার থেকে। এখন আনছিই এভাবে। এছাড়া নাই। কিনাও অন্য সময়ের চাইতে বেশি। তাই ১৭০ টাকা করেই বিক্রি করতে হইতেছে।”

সেখানে তেল কিনতে আসা শাহরিয়ার মাহমুদ নামের এক ক্রেতা বলেন, “এগুলো আসলে ঠিক না। ওই যে হয় না, হঠাৎ একট জিনিস নাই করে দিয়ে দাম বাড়িয়ে ফেলার যে ব্যাপারটা, ওইরকম আরকি। এটা শুরু হইছিল হাসিনার আমলে। এখনও ব্যবসায়ীরা সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন!”

বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, রূপচাঁদা এক লিটার সয়াবিন তেলের গায়ের দাম ১৬৭ টাকা, দুই লিটার বোতলের গায়ের দাম ৩৩৪ টাকা ও পাঁচ লিটার ৮১৮ টাকা। কিন্তু, বেশিরভাগ দোকানে এ দামের চেয়ে অন্তত ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি নিচ্ছেন বিক্রেতারা। বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্প্রতি পাম ও সয়াবিন তেল আমদানিতে প্রতি কেজিতে শুল্ক-কর ১০ থেকে ১১ টাকা কমানো হয়।

বিক্রেতারা বলছেন, শুল্ক কমলেও সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েল লিটারপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খোলা পাম অয়েল ১৬০-১৬২ টাকা এবং সয়াবিন ১৭০-১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও প্রচার) আফরোজা রহমান জানান, ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে আলু, পেঁয়াজ, চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

মুরগির দাম কমেছে

এদিকে বাজারে সব ধরনের মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৭০, সোনালি কক ৩০০, সোনালি হাইব্রিড ২৭০, দেশি মুরগি ৫১০, লেয়ার লাল মুরগি ২৮০ এবং লেয়ার সাদা মুরগি ২৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি :বীরমুক্তিযোদ্ধা আইয়ূব আলী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক :সাংবাদিক এ.আর.এস.দ্বীন মোহাম্মদ
প্রধান কার্যালয় : বুরোলিয়া তালুকদার পাড়া, মোশারফ প্লাজা ৩য় তলা ,গাজীপুর  সদর, গাজীপুর   ।
মোবাইল: ০১৭৪৬৪৯৪৬১০,০১৯৯৫৯০৮০৬৩,০১৯৮৫১৮৫৮৮৪
কারিগরি সহযোগীতায় : দ্বীনিসফট